নিজস্ব সংবাদদাতা কুষ্টিয়া,
কুষ্টিয়া: জেলার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পদ্মা নদীতে টহলরত নৌ পুলিশের উপস্থিতিতেই পিন্টু-মেহেদী বাহিনীর বিরুদ্ধে নিরীহ মাঝিদের ওপর হামলা, মারধর এবং জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন ঈশ্বরদীর জাকারিয়া পিন্টু ও তার ভাই মেহেদী হাসান।
সংবাদ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাটুরিয়া থেকে রাজশাহী পর্যন্ত নৌ-চ্যানেলের বৈধ ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের নৌযান থেকে এই সন্ত্রাসী বাহিনী জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছিল।ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের सहायक পরিচালক সোহেল খন্দকারের অভিযোগ, ইজারা পাওয়ার পর থেকেই জাকারিয়া পিন্টু, তার ভাই মেহেদী হাসান এবং ভেড়ামারার আওয়ামী লীগ নেতা সাঈদ খান তাদের কর্মচারী ও মাঝিদের হুমকি দিয়ে আসছিল।
ঘটনার দিন, টহলরত নৌ-পুলিশের এস.আই. মনির ও এস.আই. শামীমের সামনেই পিন্টুর সন্ত্রাসী বাহিনী বালুবাহী নৌকার মালিক সাইদুল সরদার এবং মাঝি সাইদ শেখ ও নায়েব আলীর কাছে চাঁদা দাবি করে।চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং গুরুতরভাবে মারধর করা হয়। আহত মাঝিদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ভুক্তভোগী সোহেল খন্দকার অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি নৌ পুলিশের ওসি খন্দকার শফিকুল ইসলামকে জানালে তিনি 'দেখছি' বলে ফোন কেটে দেন এবং পরবর্তীতে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। তার ধারণা, নৌ পুলিশ অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি। এই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকরা অভিযুক্ত জাকারিয়া পিন্টুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। একইসাথে, লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলামও সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উল্লেখ্য, জাকারিয়া পিন্টু ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। পদ্মা নদীতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বালুবাহী নৌকা থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে মাঝিরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।