জামালপুর প্রতিনিধি | ২৬ অক্টোবর ২০২৬
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এক কিশোরী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে মুছা মিয়া নামে এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মুছা মিয়া গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি থানার হরিচণ্ডী গ্রামের মো. মনিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী মণ্ডলপাড়া এলাকার একটি জামে মসজিদে ইমামতি ও শিক্ষকতা করতেন।
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হকের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই কিশোরী মুছা মিয়ার কাছে মসজিদে আরবি পড়তে যেত। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদিন সকালে অন্য শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে কিশোরীকে মসজিদে রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করাতেন তিনি।
এই সুযোগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২৮ নভেম্বর এবং ১ ও ২ ডিসেম্বর কিশোরীকে ধর্ষণ করেন মুছা মিয়া বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর কিশোরীর মা দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
১০ সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে রায়
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৫ মে পুলিশ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। পরবর্তী সময়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রমে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত মুছা মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।