অনলাইন বিনোদন ডেস্ক,
দক্ষিণের সুপারস্টার নয়নতারা, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রূপালি পর্দায়! নয়নতারার উত্থান: এক সাধারণ কলেজছাত্রী থেকে লেডি সুপারস্টার
১৮ নভেম্বর, এক বিশেষ দিন! এই দিনে জন্ম হয়েছিল দক্ষিণী সিনেমার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তামিল, তেলুগু এবং মালয়ালম চলচ্চিত্রে রাজত্ব করছেন – স্বয়ং নয়নতারা। আজ আমরা তাঁর জীবনের কিছু চমকপ্রদ তথ্য এবং সাফল্যের পেছনের গল্প জেনে নেব।
২০০৩ সালে মালয়ালম ছবি 'মানসিনাক্কারে' দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় নয়নতারার। তখন তিনি মাত্র ১৯ বছরের এক কলেজছাত্রী, পার্ট-টাইম মডেলিংও করতেন। সেই সূত্রেই নির্মাতা সাথিয়া আনথিকড়ের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। মজার বিষয় হলো, শুরুতে সিনেমার প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কারণ চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর কোনো আগ্রহই ছিল না! কিন্তু ভাগ্যে তাঁর জন্য তারকাখ্যাতি লেখা ছিল, তাই শেষ পর্যন্ত একটি শর্তে রাজি হন – স্রেফ এই একটি সিনেমাই করবেন। কে জানত, এই 'একটি সিনেমা'ই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে? 'মানসিনাক্কারে' সুপারহিট হওয়ার পর একের পর এক সিনেমার প্রস্তাব আসতে থাকে। এভাবেই ২০০৪ সালে মুক্তি পায় তাঁর দুটি ছবি—'নাট্টুরাজাভু' ও 'বিশমায়াথুমবাথু'। এটি ছিল কেবল শুরু! এরপর তিনি তামিল ও তেলুগুতে অসংখ্য সফল ছবি করে দ্রুতই 'লেডি সুপারস্টার' উপাধি লাভ করেন। বলিউডে পদার্পণ ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান পোক্ত করার পর, ২০২৩ সালে নয়নতারা বলিউডে পা রাখেন। শাহরুখ খানের বিপরীতে 'জওয়ান' সিনেমায় তাঁর অভিনয় তাকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি এনে দেয়। এটি ছিল তাঁর দীর্ঘ এবং সফল কর্মজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সম্পদের পরিমাণ ও আয়: জিকিউ সাময়িকীর তথ্য অনুযায়ী, নয়নতারা এখন প্রায় ২০০ কোটি রুপির সম্পত্তির মালিক! তিনি সিনেমাপ্রতি ৪-৫ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেন। এছাড়াও, বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি এবং নিজেদের প্রযোজনা সংস্থা থেকেও তাঁর আয় আসে। এই বিশাল সম্পদ তাঁর কঠোর পরিশ্রম, প্রতিভা এবং চলচ্চিত্র জগতে অসামান্য অবদানেরই ফল। পুরুষপ্রধান ইন্ডাস্ট্রিতে নারীর জয়যাত্রা: তামিল-তেলুগু সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি প্রায়শই পুরুষপ্রধান বলে সমালোচিত হয়, যেখানে নারী চরিত্রগুলো সেভাবে গুরুত্ব পায় না। কিন্তু নয়নতারা এই ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করেছেন। তিনি শুধু নিজের জন্য একটি শক্তিশালী স্থান তৈরি করেননি, বরং অসংখ্য নারীকে চলচ্চিত্রে নিজেদের স্বপ্ন পূরণে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর চরিত্রগুলো প্রায়শই সাহসী, স্বাধীন এবং শক্তিশালী নারীত্বের প্রতীক।